দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জ্যৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরার জনজীবন। প্রচণ্ড তাপদাহের পাশাপাশি ঘরে ঘরে জ্বরের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সকাল থেকেই সূর্যের প্রখর তাপে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, কিশোর ও কিশোরীরা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাগুরা শহরে তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুর ১২টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ ডিগ্রিতে। আর দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
অনেকেই রোদ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন। আবার অনেকেই স্যালাইন খাচ্ছেন। আশেপাশে পথের ধারে কেউ কেউ লেবুর শরবত খাচ্ছেন।
শিক্ষক সোলাইমান বলেন, ‘সকাল থেকেই রোদের ভয়াবহ তীব্রতা বেড়েছে। আমি প্রতিদিন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হই কিন্তু আজ মোটরসাইকেল নিয়ে বের না হয়ে রিকশাযোগে শহরে এসেছি।’
গৃহিণী নাজমুন্নাহার রত্না বলেন, ‘তিন দিন ধরে রোদের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আমার সন্তান জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তাকে সুস্থতা করতে সকাল-বিকাল চলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে ঘেমে যাচ্ছে সবাই। এভাবে চলতে থাকলে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। এজন্যই বৃষ্টির প্রয়োজন। একটু বৃষ্টি হলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমবে।’
কৃষক কার্তিক বিশ্বাস বলেন, ‘গরমের কারণে পাট গাছের চারা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এখন পাট গাছ ঠিক মাঝামাঝিতে রয়েছে। তীব্র গরম হলে পাটগাছ বাড়বে না। কিছুদিন আগেও মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়েছিল হলে পাটগাছ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখন পাট গাছের জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।’
গরমের কারণে মাগুরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট মাগুরা শাখার আয়োজনে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে তীব্র গরমে পিপাসার্ত মানুষকে পানি খাওয়াতে দেখা যায়। তারা বলেন, সকাল থেকে তীব্র রোদের কারণে আমরা এই স্থানে কাজ করতে পারছি না। সকাল থেকেই আমরা প্রায় শতাধিক লোককে ঠান্ডা পানি খাওয়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, অটোচালক, কিছু কিশোর, বৃদ্ধ সবাই আমাদের পানি পান করছে। আমাদের এ কার্যক্রম কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে তীব্র গরমের কারণে শহরের রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়া মানুষদের অধিকাংশকেই ছাতা ব্যবহার করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তারা দ্রুত বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করছেন।
/অ